প্রেমিকার উদ্দেশ্যে প্রেমিকের উড়ো চিঠি 

  • যোগাযোগের কোন মাধ্যম না থাকায় প্রেমিকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা বার্তা আকাশের ঠিকানায় উড়িয়ে দিলেন প্রেমিক।
এমন একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার (৫ই মে) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে ঘুরতে দেখা যায়।
৫ই মে বৃহস্পতিবার রাতে ‘দর্পন’ নামের একটি ফেজবুক পেইজ থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। অন্য সবার মতোই সেটি চোখে পড়ে বিডি কোস্টাল নিউজ এর।
ইন্টারনেটের কল্যানে যখন পুরো দুনিয়া হাতের মুঠোয় তখন আদিম যুগের মতো প্রেমিকাকে উড়ো চিঠি পাঠানোর কারন খুঁজতে গিয়ে দ্রুতই সাক্ষাৎ মেলে সেই প্রেমিকের সঙ্গে। তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি নাম প্রকাশ না করার সর্তে কথা বলতে রাজি হন।
কথা বলতে গিয়ে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেমিক আবেগাপ্লুত হয়ে যান। তিনি বলেন, আমি অনেক অন্যায় করেছি যার ফলস্বরূপ আজকে ওর সঙ্গে আমার কোন যোগাযোগ নেই।সব ভুল আমার। সবকিছুর জন্যেই আমি ক্ষমা চাইছি, আমার কাছে ওর ফিরে আসা ছাড়া আমি আর কিছুই চাই না। ও আমার স্থিতি।
তিনি বিডি কোস্টাল নিউজ’কে আরও বলেন, ২০১৯ এর ১৯ জুলাই সারাজীবন একসাথে থাকার পরিকল্পনা আর পাহাড় সমান স্বপ্ন নিয়ে আমরা সম্পর্কে জড়াই। সবকিছু ভালো-ভাবেই চলছিলো। আমরা দুজনেই খুব ভালো সময় কাটাচ্ছিলাম। আমাদের দু’জনের বাড়ির মাঝে দূরত্ব ছিলো ৭০ কিলোমিটারে কাছাকাছি। তবে মনের দূরত্ব কখনো ছিলো না বললেই চলে। সম্পর্কে যাবার পরে দেখা হয়েছিলো একবার। এছাড়া ফোনেই কথা হতো সবসময়। হঠাৎ ২০২০ এ মার্চ মাস থেকে শুরু হয় লকডাউন। পুরো পৃথিবী অদৃশ্য এক শক্তির নিকট মাথা নত করে নিয়েছে। ঠিক তখনি সবার মতো আমিও গৃহবন্দী। কোন কাজ নেই। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলো না তখন। ঘরে বসে থাকতে থাকতে নানান ধরনের দুশ্চিন্তায় মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়তে থাকি৷ মনে হয়েছিলো আর বোধহয় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।  ঠিক তখনি অকারণে আমাদের সম্পর্কটা আমি নিজে নষ্ট করে দেই। যোগাযোগ বন্ধ করে দেই ওর সঙ্গে। তখন অনেক কষ্ট দিয়েছিলাম। আমার নানান ধরনের মানসিক অশান্তির মধ্যে আমি চাইনি শুধু মেয়েটি এগুলো ভোগ করুক। তাই চেয়েছিলাম ও কিছুটা দূরে থাক, তারপর সব ঠিক হলে আবার আমরাও সব ঠিক করে নেবো। তেমনটাই কথা ছিলো আমাদের।
অদৃশ্য দাবার চালে পরাজিত আমার হৃদয়।
••এখন কি করতে চান? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম আজীবন পাশে থাকার,ভালোবাসার। আমি সবসময় আছি একান্তই তার হয়ে। আমি অপেক্ষায় থাকবো ওর ফিরে আসার। আমি আবারো ওর কাছে ক্ষমা চাইছি। যতদূরে যাক আমি ঠিকই ওর ঠিকানা খুঁজে নেবো।