এমপি হতে রমজানুল মোবারকেও থেমে নেই দু’ভাইয়ের রাজনীতি

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পবিত্র রমজানুল মোবারকে জমে উঠেছে দু’ভাইয়ের রাজনীতি। এমপি হতে প্রতিদিন এরা নিজেদের অনুসারী কর্মী, সমর্থক ও ক্যাডার বেষ্টিত হয়ে হাট বাজার ঘুরে, মসজিদে নামাজ আদায় পূর্বে ও পরে এবং ইফতারের সময় সাধারন মানুষের সাথে করমর্দন সহ কোলাকোলির অন্তরালে নিজেদের রাজনীতির মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পূর্বে মুসুল্লীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে এরা জনগনকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। মানুষ যখন রমজানুল মোবারকে পরকালে জান্নাত পাওয়ার আশায় রোজা, নামাজ, ইমান, আমল নিয়ে একমাস আল্লাহ্র আদেশ নিষেধ পালনে মনোযোগী তখন এরা দু’ভাই এমপি হতে দলের জনসমর্থন ও নিজেদের রাজনীতির মাঠ গোছাতে ব্যস্ত।

এদের একজন মো: মাহবুবুর রহমান, যিনি দু’ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। যিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি এবং সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে দুদক আইনের মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামী। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন আত্মীয় স্বজন ও হাইব্রীড নেতা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারী ফার্ম ও ইটভাটা করে দলের নেতা কর্মীদের কাছে বিতর্কিত হয়ে দলের মনোনয়ন হারিয়ে দীর্ঘ সময় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন যিনি। এরপর দলীয় অফিসে এলে ক্ষুব্ধ নেতা কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন যিনি। পরে দলের সম্মেলনে কেন্দ্র ও জেলার নেতাদের শেল্টারে দলের সভাপতি হয়ে ফের ক্যাডার বেষ্টিত হয়ে এখন এমপি হতে চান তিনি, এমপি হয়ে আবার ….।

অপরজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: হাবিবুর রহমান, যিনি দু’ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ। যিনি অবসর নেয়ার পর রাজনীতিতে এসে উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হয়েছেন। অবসর নেয়ার পর ব্যবসার ফাঁকে এখন রাজনীতিতে সরব হতে চান। এলাকার তৃনমূলে ঘুরে ঘুরে দলের হয়ে পবিত্র রমজানুল মোবারকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিচ্ছেন জনগনকে। কেন্দ্রের গ্রীন সিগনাল পেয়ে যিনি এমপি হতে এলাকায় এসেছেন বলে প্রচার করছেন মানুষের মাঝে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ’আমি অবসর নেয়ার পর বন্ধুদের সাথে গলফ খেলে আনন্দ নেই। মানুষের কল্যানের জন্য জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কাজ করতে চাই। জনগনের ভাগ্য, সন্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, সেই সমস্ত আজে বাজে নেতৃত্বের কবল থেকে আমার এলাকার মানুষকে মুক্ত করতে চাই।’

তবে এ নিয়ে তার জ্যেষ্ঠ ভাই মো: মাহবুবুর রহমান’র কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।