কর্মস্থলে না এসেই বেতন নিচ্ছেন ভোলা সরকারি স্কুলের নৈশ প্রহরী

ডেস্ক রিপোর্টঃ কর্মস্থলে না এসেই দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি বেতন নিচ্ছেন ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রুহুল আমিন। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করেই তিনি এ বেতন তুলছেন নিয়মিত।

এদিকে নৈশ প্রহরী অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ে চুরি বেড়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে পর পর দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষের জানালার গ্রিল ভেঙে প্রতিষ্ঠানটিতে চোর ঢোকার পাশাপাশি পুকুরের মাছ চুরির ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান বলছেন, নৈশ প্রহরীর না থাকলেও তার বদলে ধার করা একজন অতিথি নৈশ প্রহরী স্কুলের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১৮ সালে স্থাপিত হয়। স্কুলটিতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে ৩০ জন শিক্ষক। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে একজন আয়া, একজন দপ্তরী ও একজন নাইট গার্ড। করোনার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হলে সকলেই কর্মস্থলে ফিরেন। তবে প্রতিষ্ঠানে ফেরেননি স্কুলের নৈশ প্রহরী রুহুল আমিন।

তিনি ২০২০ সালের ২০ মার্চ বরিশাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বদলি হয়ে ভোলা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি উপস্থিত হননি। করোনাকালে সুযোগটি নেন শতভাগ। দায়িত্ব পালন না করেও গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে প্রতি মাসে সরকারি বেতন উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে ম্যানেজ করেই তিনি নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন না করেই দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে বেতন তুলে নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, নৈশ প্রহরী রুহুল আমিনের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার জামিরা লতা গ্রামে। বর্তমানে তিনি প্রেমরোড এলাকায় অবস্থান করে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রুহুল আমিনের বাসার সামনে একটি সাইনবোর্ড লেখা। ওই সাইনবোর্ডে তার নামের পাশে লেখা রয়েছে মাষ্টার। স্থানীয় লোকজনও তাকে মাষ্টার হিসাবে চিনেন। ওই এলাকার চায়ের দোকানি নুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, রুহুল আমিন কে এলাকার লোকজন সবাই স্যার হিসাবেই জানেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রুহুল আমিন বলেন, আমি অনেক আগে মানুষের বাসায় লজিং (গৃহ শিক্ষক) ছিলাম। তাই, আমি আমার নামের পাশে মাষ্টার লিখেছি। এলাকার মানুষও আমাকে মাষ্টার হিসাবে চিনেন।

স্কুলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির বিষয়ে নুরুল আমিন বলেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। তাই আমার প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই অনুপস্থিত রয়েছি। স্ত্রীর সহযোগিতা নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে বেতন তুলছি। বেতনের একটা অংশ ধার করা নৈশ প্রহরী তপনকে দেন রুহুল আমিন। তবে, আর বেশী দিন চাকরি করবেন না বলেও জানান ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রুহুল আমিন।

এ বিষয়ে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ি বলেন, অসুস্থতার কারণে স্কুলের নৈশ প্রহরী নুরুল আমিন দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত। তবে, তপন নামের ধার করা একজন নৈশ প্রহরীকে দিয়ে স্কুলের রাতে পাহারা দেয়ার কাজ করানো হচ্ছে। তাকে এর জন্য কিছু সম্মানিও দেওয়া হচ্ছে। ফলে কোন সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়, উচকোচ গ্রহন, স্কুলের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। তবে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে কোন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না।