সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত মুজাহিদ প্রিন্স 

ডেস্ক রিপোর্টঃ পটুয়াখালী সাংস্কৃতিক কর্মী- সংগঠকদের ভালোবাসা সিক্ত হলেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাংগঠনিক সম্পাদক, খেলাঘর জাতীয় পরিষদ ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সদস্য, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও পটুয়াখালীর স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সুন্দরম’র সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মী-সংগঠকদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
আজ শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংস্কৃতিক সংগঠন সুন্দরম, পটুয়া খেলাঘর আসর ও জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, সুন্দরম পরিবারের সভাপতি প্রফেসর এম. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও পটুয়া খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক সুজয় চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভি.পি আব্দুল মান্নান, পটুয়া খেলাঘর আসরের সভাপতি প্রফেসর একে.এম শহীদুল ইসলাম, পটুয়াখালী আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বাদল ব্যানার্জী, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সুন্দরম পরিবারের উপদেষ্টা গাজী হাফিজুর রহমান শবীর,জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সভাপতি এ্যাড. উজ্জ্বল বোস প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রুবেল, পটুয়া খেলাঘর আসরের সহ-সভাপতি নীনা আফরিন, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা,সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মিঠুন পাল বান্টি,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হৃদয় আশীষ সহ পটুয়াখালী সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী সংগঠক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সুন্দরমের দলীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ফুলের শুভেচ্ছার দিয়ে বরন করে নেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, পটুয়াখালী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকপাল মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে। পরবর্তীতে মুজাহিদ প্রিন্সকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. উজ্জ্বল বোস,তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সুন্দরম পরিবারের সভাপতি প্রফেসর এম নুরুল ইসলাম।
এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, মুজাহিদ প্রিন্স সাংবাদিকতার এক অকুতোভয় সাহসী যোদ্ধা। তার নেতৃত্বে বিগততে পটুয়াখালীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যাপ্তি ছড়িয়েছে দেশ থেকে বিদেশে। তার হাত ধরে যেভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গন পরিপূর্ণতা পেয়েছে তেমনি পরিপূর্ণতা পেয়েছে সাংবাদিকতা। তার হাত থেকে ইতিমধ্যে বহু সাংবাদিক সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই সফলতার সাথে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে পটুয়াখালীতে। যাদের ভেতরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ছোঁয়া রয়েছে তাদের মন থাকে পবিত্র এবং সৎ সাহসী। প্রতিটি যায়গায় যদি সাংস্কৃতিক কর্মীরা এভাবে যোগ্যতার মধ্যে দিয়ে তাদের স্থান তৈরী করে নিতে পারে তবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সহজ হয়ে যাবে। মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্সের সাংগঠনিক দক্ষতা ও মেধাবী পদক্ষেপের মাধ্যমে পটুয়াখালী প্রেসক্লাব এগিয়ে যাবে বহুদূর, এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্যমনি মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বর্তমানে একুশে টেলিভিশন, আমাদের সময় ও ডেইলি অবজারভারে কর্মরত রয়েছেন। তিনি পটুয়াখালী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামেরও সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব পালন করছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।
তার রচনা ও নির্দেশিত বেশ কিছু নাটক প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জাতীয় নাট্য উৎসব সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার লেখা ও নির্দেশনায় বহু নাটক সফলভাবে মঞ্চায়ন হয়েছে ইতিমধ্যে।
তার লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস- পটুয়াখালী জেলা’ বইটি বহু প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বাচ্চাদের নাট্যচর্চায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০০৩ সালে মুজাহিদ প্রিন্সের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে সুন্দরম চিলড্রেনস থিয়েটার। ২০০৭ সালে তারই হাত ধরে পটুয়াখালীতে পথচলা শুরু করে পটুয়া খেলাঘর আসর। এছাড়াও আবৃত্তি চর্চার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে তার নেতৃত্বে এগিয়ে চলে পটুয়াখালী আবৃত্তি মঞ্চের পথচলা।
পটুয়াখালীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই দিকপাল মুজাহিদ প্রিন্সের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, সকলের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। এই সম্মাননা আমার দায়িত্ববোধকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রত্যেকেই আমার পরিবারের অংশ, এদের ভালোবাসাই আমার পথ চলার শক্তি। সকলের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা নিয়ে সততার সাথে আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো এ আমার অঙ্গিকার।