নদী, খাল ও জলাশয় বাদ পড়ছেনা দখল থেকে, নেপথ্যে ভুয়া বন্দোবস্ত কেস

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিনাঞ্চলে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রোল মডেল খ্যাত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারী খাস খতিয়ান ভূক্ত জমি ভুয়া বন্দোবস্ত কেসে খতিয়ান সৃজন ও মাঠ জরিপে বিএস রেকর্ড হয়ে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। নদী, খাল ও জলাশয় বাদ পড়ছেনা এ দখল থেকে। একটি সংঘবদ্ধ ভূমি দস্যু চক্র স্থানীয় ভূমি অফিস, বিএস মাঠ জরিপ কর্মকর্তা ও রাঘব বোয়ালদের নেপথ্য শেল্টারে দিনের পর দিন রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাত করে চললেও তা উদ্ধারে গৃহীত পদক্ষেপ আটকে আছে অফিস ফাইলে। এছাড়া সরকারের স্বার্থ রক্ষায় দেওয়ানী আদালতে দায়িত্বরত সরকারী কৌশুলীরা সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় সরকারী জমি উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। তবে জনস্বার্থে দায়েরকৃত কিছু দেওয়ানী মামলা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে নি¤œ আদালত সহ উচ্চ আদালতে।

সূত্র জানায়, উপজেলার মধুখালী মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ৬৯৯৭, ৬০৫৪, ৬০৫৫, ৬০৬৪ নং দাগের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ২০.৬৭ একর সরকারী খাস খতিয়ানের জমি পূর্ব বাঙ্গালা প্রদেশ পক্ষে-কালেক্টর’র নামে রেকর্ড বিদ্যমান। যা আত্মসাৎ করার লক্ষে ভুয়া বন্দোবস্ত ২৩৫-কে/১৯৫৩-১৯৫৪ কেস দেখিয়ে ১৫৯ নম্বর খতিয়ান খুলে বিএস মাঠ জরিপে ৬২৯৯, ৬২৯৭, ৬৩৯৪, ৬৪০৪ ও ৬৪০৯ নং দাগে পৃথক ১০৬২, ১১৮১ নং খতিয়ান প্রনয়ন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ন বিধি বহির্ভূত ভাবে ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ১৫৪(৭) ধারা মতে প্রনীত ১৯৫৫ সালে প্রজাস্বত্ত্ব বিধিমালার ৩২ বিধিমতে চূড়ান্ত ভাবে প্রস্তুতকৃত স্বত্ত্বলিপি প্রনয়ন করা হয়েছে। উক্ত জমি ৩০ ধারা পর্যন্ত ১ নং খাস খতিয়ান হিসেবে ছিল পরবর্তীতে ৩১ ধারা (আপীল) মোকদ্দমায় কারসাজি করে প্রজার নামে সরকারের সম্পত্তি খতিয়ান দেয়া হয়েছে। এনিয়ে পূর্ব মধুখালী গ্রামের মাহাতাব হাওলাদার গং জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট নয়াকাটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ভাবে জানান উল্লিখিত বন্দোবস্ত কেস, খতিয়ান সঠিক নয়। বিএস মাঠ জরিপে ভুলক্রমে এটি করা হয়েছে, যা বাতিলের জন্য অনুরোধ জানান তারা। তবে এটি বাতিল করতে হলে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের অধীনে জেলা প্রশাসককে বাদী হয়ে আদালতে স্বত্ত্ব ঘোষনার মামলা করতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেটি হওয়া নিয়ে, যদিও বা করা হয় তবে কবে করা হবে?

এর আগে পৌরশহর তীরবর্তী আন্ধারমানিক, চিংগড়িয়া, নাচনা পাড়া, টিয়াখালী, শিববাড়িয়া, দোন নদী, খাল সহ জলাশয়কে নাল জমি দেখিয়ে ভুয়া বন্দোবস্ত কেসে খতিয়ান, মাঠ জরিপ হয়ে কয়েক হাত বদল হয়ে গেছে মালিকানার। একটি ভূমি দস্যু চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সরকারের সম্পত্তি বিক্রী করে। এসব নদী, খাল, জলাশয় ভরাট হয়ে দৃশ্যমান হয়েছে অগনিত স্থাপনা, বহুতল ভবন। আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে পাকাপোক্ত হয়েছে দখল স্বত্ত্ব। এমনকি আন্ধারমানিক নদীর ডুবো চর বিক্রী হয়ে গেছে ভুয়া বন্দোবস্ত কেস, খতিয়ান ও খাজনা দাখিলা দিয়ে। রেজিষ্ট্রী দলিল সম্পাদন করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে। তবে এসব সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে কি কোন দায় নেই ভূমি প্রশাসনের? এমই জিজ্ঞাসা এখন সচেতন মহলের। এনিয়ে কালে ভদ্রে যদিও বা দেখা যায় পরিবেশ অধিদপ্তর বেলা’কে কথা বলতে, জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন ফাইল করতে। এরপর আবার যেই সেই।

এ বিষয়ে ভুয়া ২৩৫-কে/১৯৫৩-১৯৫৪ বন্দোবস্ত কেসের গ্রহীতা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ’আমি একজন কাঠ মিস্ত্রী, এখন কাজ করতেছি। বিষয়টি আমি ভাল জানি না, ভাইয়ের সাথে কথা বলে আমি আপনাকে ফোন করবো। কোন রিপোর্ট কইরেন না।’

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ’২৩৫-কে/১৯৫৩-১৯৫৪ কেসটি ভুয়া। ১৫৯ নম্বর নামে কোন খতিয়ানের অস্বিত্ব নেই ভূমি অফিসে। বিধি বহির্ভূত বিএস মাঠ জরিপ করা হয়েছে। উল্লিখিত জমি খাল শ্রেনীর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।’

কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল বলেন, ’আমি এখন কুয়াকাটার কচ্ছপখালী খালের অবৈধ বাঁধ কাটতে এসেছি। অফিসে না গিয়ে, রেজিষ্ট্রার না দেখে আমি সঠিক ভাবে বলতে পারছিনা। তবে সরকারী খাস জমি উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে বেদখল হওয়া সব সরকারী জমি উদ্ধার করা হবে।’