তালতলীতে নারী শ্রমিকদের চেক বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট : বরগুনার তালতলীতে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ৩২ জন নারী শ্রমিককে সঞ্চয় টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের এলজিইডি অফিস কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে চেক বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজবি-উল-কবির।
এক লক্ষ দুই হাজার ৯৭০ টাকার চেকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন হতদরিদ্র এসব নারী শ্রমিকরা।
চেক পেয়ে নারী শ্রমিক সূখী আক্তার বলেন, নয় বছর আগে আমার সন্তান হওয়ার পর স্বামী
ফোরকান মিয়া আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে চলে যান। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে বাবার বাড়িতে ছিলাম। রাস্তার কাজ করে কোন রকম সংসার চলত। আজ এতগুলো টাকা পেয়ে আমি খুব খুশি। আমি এই টাকা দিয়ে গরু/ছাগল কিনে লালন পালন করবো।
আরেক শ্রমিক জাহিনূর বেগম বলেন, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে রেখে আমার স্বামী আট বছর আগে নিরুদ্দেশ হয়। তিন শিশু সন্তান নিয়ে জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখনো করছি। এই টাকা দিয়ে সন্তানদের জন্য এক টুকরো জমি ক্রয় করবো। একজন নারী হয়ে সংসার চালানো যে কতটা কষ্টের তা একমাত্র নারীরা ভালো বোঝে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করবো। এই প্রকল্পগুলো কখনো যেন বন্ধ না হয়।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আহাম্মদ আলী বলেন, গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অসহায় এসব নারীরা রাস্তার মাটি কাটার কাজ নিয়েছিলেন। এলজিইডির অধীনে কাজ করে তারা গ্রামের রাস্তাগুলো ভালো রাখার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। রাস্তার পাশে মাটি দিয়ে ভাঙণ ঠেকানো ও রাস্তার ধারের জঙ্গল কেটে পরিস্কার রাখা তাদের কাজ।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তিন বছরের চুক্তিতে তাদের সর্বশেষ নিয়োগ দেয়া হয়। তারা প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরি চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রতি মাসে তাদের পাওনা হয় নয় হাজার টাকা। এর মধ্যে তিন হাজার টাকা স্ব স্ব ব্যাংকে জমা রাখা হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষে হওয়ায় তারা আজ সর্বমোট ৩১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬৯৫ টাকার চেক পেয়েছেন। আশা করি তারা এ অর্থ দিয়ে সাবলম্বী হতে পারবেন। এ খাতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে অনেক নারীরা সন্তানসহ দু’মুঠো ভাত খেয়ে বেচেঁ থাকতে পারবে।